কলকাতা/বাগডোগরা: মালদার কালিয়াচকে সাত জন জুডিশিয়াল অফিসারকে ঘেরাও করে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি।
অভিযোগ, তিনি বিমানযোগে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছিলেন, সেই সময়ই তাঁকে আটক করা হয়। তদন্তকারী মহলের দাবি, কালিয়াচক-সংক্রান্ত অবরোধ, বিক্ষোভ এবং বিচারকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
ঘটনাটি ঘটে ১ এপ্রিল, বুধবার, যখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিন্যাস বা SIR-কে ঘিরে মালদার কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। সেদিন আপত্তি ও শুনানির কাজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাত জন জুডিশিয়াল অফিসার, যাঁদের মধ্যে কয়েক জন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা থেকে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বা তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর ব্লক অফিস ঘিরে ফেলা হয় এবং বিচারকদের দীর্ঘ সময় ধরে বেরোতে দেওয়া হয়নি।
একই সময়ে জাতীয় সড়ক ১২-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় অবরোধ গড়ে ওঠে, যার জেরে বিস্তীর্ণ এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে গভীর রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় অবরুদ্ধ জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি আদালতের নজরে আসে এবং সর্বোচ্চ আদালত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত জানায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের এভাবে ঘেরাও করে রাখা অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা।
এর পর তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে এবং আরও কয়েক জনকে চিহ্নিত করে। সেই তালিকায় মোফাক্কেরুল ইসলামের নামও উঠে আসে, এবং তাঁকে খুঁজতে তল্লাশি শুরু হয়।
মোফাক্কেরুল ইসলাম পেশায় আইনজীবী এবং অতীতে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, কালিয়াচকের বিক্ষোভকে সংঘবদ্ধ আকার দেওয়া এবং পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গ্রেফতারের পর তাঁকে আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। এখন তদন্তের মূল প্রশ্ন, বিচারকদের ঘেরাও, রাস্তা অবরোধ এবং সামগ্রিক অশান্তি সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা কতটা ছিল, তা আদালতে কত দূর প্রতিষ্ঠিত হয়।
