যে ভিডিওটা আমরা ভুলে যাওয়ার ভান করি
শুরুতে বুঝতেই পারেন না, ঠিক কী দেখছেন।
ঝাঁকুনি খাওয়া ফোনের ফ্রেম, ধুলো উড়ছে গ্রামের কাঁচা রাস্তায়, দূরে কোথাও একগাদা ভিড় জমেছে। একটু পর ক্যামেরা কাছে আসে, নাম-না-জানা এক মহিলাকে দেখতে পান ভিড়ের একেবারে মাঝে। হাত বাড়িয়ে কেউ তার চুল টানছে, কেউ কাপড়, কেউ শরীর। কারও মুখে হাসি, কারও হাতে মোবাইল। থামাতে এগিয়ে আসে খুব কম জন।
গত সপ্তাহে এ দৃশ্য ছিল নালন্দা; তার আগে ছিল মণিপুর; তারও আগে হাথরাস, Kathua, উনাও, দিল্লি।
ভাষা আলাদা, ভূগোল আলাদা, বর্বরতার কোরিওগ্রাফি প্রায় এক।
কয়েক ঘণ্টা, কয়েক দিন ধরে দেশ উত্তাল থাকে—হ্যাশট্যাগ, মোমবাতি, টেলিভিশনের ক্রল। তারপর নিউজফিড স্ক্রল করতে করতে আমরা ধীরে ধীরে পরের খবরটায় সরে যাই। ভিডিওটা আমাদের ভেতরে দাগ কেটে থাকে, সিস্টেমগুলো কিন্তু আচরণ করে যেন কখনও কিছুই ঘটেনি।
প্রশ্নটা তাই থেকে যায়: কেন বারবার এমন হচ্ছে? আর একবার হলেও কি সত্যিই এমন বলা যাবে—এই পর্যন্ত, এখন থেকে আর নয়?
যে সংখ্যাগুলো চোখ ঘুরিয়ে নিতে দেয় না
জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে দেশে ৪ লক্ষ ৪৮ হাজারেরও বেশি নারী–নি*র্যা*তনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে—পূর্ববর্তী দুই বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।
এর মধ্যে কেবল ধ*র্ষ*ণ–সংক্রান্ত মামলাই প্রায় ৩০ হাজার, অর্থাৎ গড়ে দিনে প্রায় ৮০টিরও বেশি; তার বাইরে আছে আক্রমণ ও শ্লী*ল*তাহানির হাজার হাজার অভিযোগ।
কিন্তু এত মামলা আদালতের দরজা পর্যন্ত গিয়েও ন্যায়বিচার পায় কত? ২০১৮–২০২২ এই পাঁচ বছরে ধ*র্ষ*ণ মামলার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ভেসেছে ২৭–২৮ শতাংশের আশেপাশে—গুরুতর অপরাধের মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন।
অর্থাৎ প্রায় চারটির মধ্যে তিনটি মামলায় অভিযুক্তরা শেষ পর্যন্ত ছাড়া পেয়ে যায়।
এই পরিসংখ্যান এসেছে আইন আরও শক্ত হওয়ার পরেও।
২০১২-র দিল্লির ‘নির্ভয়া’–মামলার পর ধ*র্ষ*ণের আইনি সংজ্ঞা বিস্তৃত হয়েছে, শাস্তি বেড়েছে, গণধ*র্ষ*ণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কুড়ি বছর থেকে আজীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত, শিশু ধ*র্ষ*ণের ক্ষেত্রে মৃ*ত্যু*দণ্ড পর্যন্ত যুক্ত হয়েছে; দ্রুত বিচার–আদালত গড়ার দায়ও আইনে লেখা হয়েছে।
তারপরও সংখ্যাগুলো কোমল হয়নি। বরং এক ধরনের অচলাবস্থা রয়ে গেছে—আইন কঠোর, অপরাধের প্রবণতা জেদি।
যখন প্রশাসন জাগে কেবল ভিডিও ভাইরাল হলে
নালন্দার ঘটনাটা সেই বহুচর্চিত স্ক্রিপ্টেরই পুনরাবৃত্তি।
এক তরুণ বিবাহিত মহিলা ধান–গম নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়ি ফিরছিলেন; মাঝরাস্তায় তিন যুবক তাকে ঘিরে ধরে, টেনে নিয়ে যায়, শ্লী*ল*তাহানি করে, কাপড় ছিঁড়ে ফেলার চেষ্টা করে, ধ*র্ষ*ণের চেষ্টা চালায়—এমনটাই অভিযোগ।
কেউ একজন সেই দৃশ্য মোবাইলে ধরে; কিছু ঘণ্টার মধ্যে ভিডিও ওঠে সোশ্যাল মিডিয়ায়; তবেই দেশ জুড়ে ক্ষোভের স্রোত, তবেই থানায় এফআইআর, দু’জন গ্রেফতার, এসআইটি গঠন, পুলিশের প্রতিশ্রুতি—“কেউ ছাড় পাবে না।”
মণিপুরে কুকি–জো দুই মহিলাকে ন*গ্ন করে হাঁটানো, হে*ন*স্থা, গণধ*র্ষ*ণের ঘটনাতেও প্রথমে এফআইআর হয়েছিল, অভিযোগ গিয়েছিল জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছেও; কিন্তু দু’মাস ধরে তদন্ত প্রায় থেমেই ছিল।
ভিডিও যখন জুনের শেষে–জুলাইয়ে ভাইরাল হল, তখনই হঠাৎ কয়েক দিনের মধ্যে ধরপাকড়, সিবিআই তদন্ত, দিল্লি থেকে তীব্র রাজনৈতিক নিন্দা—সব একসঙ্গে শুরু হল।
স্ক্রল–সহ একাধিক বিশ্লেষণ তাই লিখল, ভারতে বহু ক্ষেত্রে সহিং*স*তার ভিডিওই শেষ পর্যন্ত পুলিশকে নড়াতে বাধ্য করছে—চাই সেটা মণিপুর ও নালন্দার মতো যৌ*ন স*হিং*স*তা হোক, চাই মধ্যপ্রদেশে জা*ত–বৈষম্যমূলক আক্রমণ, চাই আর কোনও শহরের হেন*স্থা।
ভুক্তভোগীর প্রথম কান্নার চেয়ে দেশের দ্বিতীয়–হাত শক( shock) -কে যেন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আমাদের সিস্টেম এ।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার তুলনামূলক দ্রুত এসেছে—
Kathua–মামলায় আট বছরের এক শিশুর উপর নির্মম অপরাধের জন্য ছ’জন দোষী সাব্যস্ত, তিনজনের আজীবন কারাদণ্ড, তিনজন পুলিশকর্মীর প্রমাণ নষ্টের দায়ে পাঁচ বছর করে জেল।
উনাও–মামলায় এক প্রভাবশালী বিধায়ক শেষ পর্যন্ত যাবজ্জীবন দণ্ড পেয়েছেন, যদিও আপিল চলাকালীন পরে হাইকোর্ট থেকে জামিনও পেয়েছেন।
আবার হাথরাস–মামলায়, চার অভিযুক্তের মধ্যে তিনজন সম্পূর্ণ খালাস, এক জনের বিরুদ্ধে কেবল ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’র দোষ প্রমাণিত—ধ*র্ষ*ণ বা হ*ত্যার নয়।
কয়েকটি মামলায় উদাহরণস্বরূপ সাজা; অসংখ্য মামলায় চুপিসারে ভেঙে পড়া লড়াই, প্রমাণের অভাব, সাক্ষ্যের বদল, সামাজিক–রাজনৈতিক চাপ।
সামাজিক বুনোট ছিঁড়ে যাওয়ার ধীর শব্দ
পরিসংখ্যান বলছে, নারী–নির্যা*ত*নের মানচিত্র কোনও একটি প্রদেশে আটকে নেই; উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ—সবাই মিলে এ চিত্র তৈরি করে, আবার মাথাপিছু হিসাবে রাজস্থান, তেলঙ্গানার মতো রাজ্যে হার আরও বেশি।
নারী যে বার্তাটা দেশে দেশে পায়, তা মোটামুটি একই—ঝুঁকিটা ব্যতিক্রম নয়, পটভূমি।
প্রতিটি ঘটনা অদৃশ্য ভাবে কয়েকটি ছোট প্রতিদিন বদলে দেয়।
কোনও মেয়ে আর সেই গলি দিয়ে একা ফেরা নিরাপদ মনে করে না;
কর্মজীবী নারী প্রতিটি ক্যাব যাত্রায় লোকেশন শেয়ার করে;
অভিভাবক লাখোবার ভেবে তবেই মেয়েকে অন্য শহরে পড়তে পাঠায়;
মণিপুরের মতো জায়গায় গোটা সম্প্রদায় ঘুমোতে যায় এই জেনে যে, তাদের নারীর শ*রী*রকে ব্যবহার করা হয়েছে জাতিগত প্রতিহিং*সার যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সব মিলে সমাজের ভিতরকার আস্থা ক্ষয়ে যায়।
নারীকে সারাক্ষণ হিসেব করে চলতে হয়—খালি গলি, ভিড় বাস, অফিসের পার্টি, কোর্ট–কাচারির করিডর—কোথায় কতটা ঝুঁকি।
যারা অপরাধী নয়, সেই পুরুষরাও অনেক সময় সন্দেহের চোখে দেখা হতে হতে চুপ হয়ে যায়; পুরুষদের ভেতরের আড্ডায়, অফিসের মজা–তামাশায় যেখানে নারী–বিদ্বেষ হালকা ঠাট্টা হয়ে ঘুরে বেড়ায়, সেখানে আপত্তির গলাটা উঠেই না।
তত দিনে ক্যামেরা নিজের আলাদা ভূমিকা তৈরি করে ফেলেছে।
নালন্দা থেকে মণিপুর—অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, আক্রমণকারীর হাতে যেমন ফোন, দর্শকের হাতেও তেমন। দর্শকরা তাৎক্ষণিক ভাবে থামাতে ঝাঁপায় না; তার আগে ভিডিও তোলে।
এতে অপরাধ একবার নয়, দু’বার ঘটে—আগে স্পর্শের মাধ্যমে, পরে ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যমে।
অপরাধীর শাস্তি, আর পুরুষের করণীয়
প্রতিটি ঘটনার পরই আবেগের প্রথম ঢেউ বলে, “আরও কড়া শাস্তি চাই।”
আমাদের আইনে এখনই বহু কড়াকড়ি আছে—গণ*ধ*র্ষ*ণে ন্যূনতম ২০ বছর থেকে আজীবন; বারবার ধ*র্ষ*ণে বাধ্যতামূলক যাবজ্জীবন; ১২ বছরের কম মেয়েকে ধ*র্ষ*ণে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে।
কিন্তু বিশ্বজুড়ে এবং ভারতের বহু গবেষণা একই সত্যের দিকে আঙুল তোলে—অপরাধ কমায় সর্বোচ্চ শাস্তি নয়, নিশ্চিত ধরা পড়ার সম্ভাবনা।
যখন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার ৩০ শতাংশেরও কম, তদন্তে ফাঁকফোকর, সাক্ষী–সুরক্ষায় ফাঁক, বিচার শেষ হতে বছরে–বছরে কেটে যায়—তখন একেকটা মৃ*ত্যুদণ্ড বা ফাঁসি কেবল স্পেক্ট্যাক্ল হয়ে থাকে, সিস্টেমিক পরিবর্তন নয়।
শাস্তি তাই হতে হবে কঠোর, দ্রুত এবং নিশ্চিত।
তার মানে:
- রাজনৈতিক চাপে নয়, পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত;
- ফরেনসিক ও সাইবার–ইউনিটকে পর্যাপ্ত প্রযুক্তি ও জনবলে শক্ত করা;
- সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, যাতে স্থানীয় দাদাগিরি আর্থিক–সামাজিক চাপে গুঁড়িয়ে না দিতে পারে;
- আর সত্যিকারের দ্রুত বিচারের কাঠামো, যা নামের জন্য নয়, বাস্তবে দ্রুত।
তার ফাঁকে দ্বিতীয় স্তরও আছে—অপরাধ ঘটার অনেক আগে পর্যন্ত “ভাল” পুরুষদের করণীয় কী?
একজন সচেতন পুরুষের ন্যূনতম তিনটি দায়:
- দর্শক নয়, অংশগ্রহণকারী হওয়া—সাহায্যে।
ট্রেন, রাস্তা, আদালতের বারান্দা—যেখানেই কোনও নারীকে হেনস্থা হতে দেখবেন, সেখানে গিয়ে দাঁড়ানো, অন্যদের ডাকা, পুলিশের খোঁজ করা—এটাই মৌলিক মানবিকতা। যে কেবল ভিডিও তোলে, সে সাংবাদিক নয়, সহ–অপরাধী। - আড্ডা–সংস্কৃতির ভিতরেই আপত্তি তোলা।
ধ*র্ষ*ক কেবল অন্ধকার গলি থেকে তৈরি হয় না; পুরুষদের মধ্যেই যে ঠাট্টা, ফরওয়ার্ড, মন্তব্য ঘোরে—যেখানে নারীর শরীর কৌতুক, ট্রফি, অবজেক্ট হয়ে ওঠে—সেখানেই ক্রমশ স্বাভাবিক হয়ে ওঠে সহিংসতার ভাষা। সেই স্থানে “মজা নষ্ট” হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আপত্তি তুলতে হবে। - নারীবাদকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না ভেবে সর্বজনীন নিরাপত্তা হিসেবে দেখা।
পর্যাপ্ত আলো, নিরাপদ গণপরিবহণ, জেন্ডার–সেন্সিটিভ কারিকুলাম, থানার জবাবদিহি—এসব “মেয়েদের বাড়াবাড়ি” নয়, জননিরাপত্তার পরিকাঠামো। পুরুষেরা যদি প্রতিটি নারীবাদী দাবি–তর্ককে ব্যক্তিগত দোষারোপ বলে মনে করে, তবে তারা আসল কথাটাই হারিয়ে ফেলে।
একটা সুস্থ সমাজে পুরুষের লজ্জা নারীর সঙ্গে মিলেমিশে থাকে; নারীর বিপরীতে দাঁড়ায় না।
কেন এমন হয়—আর মুক্তির পথ কী?
একটা কারণ নেই; আছে বিষমিশ্রণ:
- পিতৃতন্ত্র ও অধিকারবোধ: “না” মানে আসলে “হ্যাঁ”, গরিব, দলিত বা আদিবাসী নারীর শরীরের মর্যাদা কম, স্ত্রী মানে স্বামীর সম্পত্তি—এসব অদৃশ্য বিশ্বাস।
- দুর্বিনিয়োগ ক্ষমতা: স্থানীয় দাদা থেকে সাংসদ–বিধায়ক—যারা ধ*র্ষ*ণ, হে*ন*স্থা, হুমকি দিয়েও পার পেয়ে যায়, তাদের দেখে আশেপাশের পুরুষেরা লাইসেন্স পায়।
- সংঘর্ষ আর ঘৃ*ণা: মণিপুরের মতো জায়গায় নারী ছিল গোটা জনজাতির লজ্জা দেওয়ার হাতিয়ার—দু’জনের শরীরের উপর হয়ে গেছে দুই সম্প্রদায়ের যুদ্ধ।
- ভয়াবহ ভয়ার্ত ডিজিটাল ইকোসিস্টেম: প্রতিটি অত্যাচারের ফুটেজ লাইক–ভিউ বেচার জিনিস; প্ল্যাটফর্ম অনেক সময় দেরিতে ক্লিপ সরায়, দেরিতে ডেটা দেয়।
রাতারাতি ধ*র্ষ*ণহীন পৃথিবী বানানোর কোনও জাদু নেই।
কিন্তু এমন এক সমাজ বানানোর বাস্তব রাস্তা আছে, যেখানে এই অপরাধ অনেক কম বার ঘটে, অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয় অপরাধীর জন্য, আর কোনও ঘটনা চুপচাপ চাপা পড়ে না।
সেই পথে চারটি সুনির্দিষ্ট বাঁক:
- হ্যাশট্যাগের আগে আইন–শৃঙ্খলার সাড়া।
প্রথম দিনেই এফআইআর, ভুক্তভোগীর বয়ান–প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতার; ভিডিও ভাইরালের জন্য অপেক্ষা নয়। অভিযোগ উপেক্ষা করলে বা তলিয়ে দিলে পুলিশকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। - স্কুলে–কলেজে সম্মতির পাঠ।
একদিনের ‘অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন’ নয়; ধাপে ধাপে পড়ুয়াদের শেখানো—অন্যের শরীর কখনও “অধিকার” নয়, যেমন অন্যের পরীক্ষার কাগজ “আমার” নয়। - নারীর আর্থ–সামাজিক স্বাধীনতা।
যে নারী সংসার ছেড়েও বাঁচতে পারে, যিনি কাজ, বাসস্থান, আইনি সহায়তার সুযোগ পান, তাঁকে চুপ করিয়ে দেওয়া কঠিন। কাজেই প্রকৃত কাজের সুযোগ, সস্তা আইনি সহায়তা, নিরাপদ হোস্টেল, মজবুত মহিলা সংগঠন—এসব সবই “নির্যাতন–বিরোধী” নীতির অংশ। - স্মৃতিশক্তি, যা দশ দিনের পরে রিসেট হয় না।
যে সাংবাদিক মামলা ফলো–আপ করেন, যে নাগরিক সমাজ মাস–বছর গড়ালে আবার জিজ্ঞেস করে, যে ভোটার প্রার্থীর কাছে জিজ্ঞেস করে—“এই অঞ্চলে কতটি মামলায় চার্জশিট, কতটিতে সাজা?”—তাদের জেদই শেষ পর্যন্ত পরিবেশ বদলাতে পারে।
যে টানটান প্রশ্নটি ঝুলে থাকুক
প্রতিটি নতুন ভিডিও—নালন্দা, মণিপুর, হাথরাস, দিল্লি—আমাদের কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ করিয়ে দেয়।
আমরা ভয়ে, ঘৃ*ণায়, অস্বস্তিতে নিঃশ্বাস আটকে ফেলি—তারপর নিঃশ্বাস ছেড়ে মনে মনে বলি, “ভাল, অন্তত আমার বোন, মেয়ে, প্রতিবেশী নয়।”
আসলে সত্যিকারের সাসপেন্সটা অন্য জায়গায়।
এই ঘটনাটি কি আগের মতোই চক্রে ঢুকবে—ভাইরাল, প্রতিবাদ, গ্রেফতার, ভোলাভোলা স্মৃতি—নাকি এবার সত্যিই কিছু বদলাবে?
ক্যামেরা কি শেষ পর্যন্ত কনটেন্টের লোভ ছেড়ে প্রমাণের দায়িত্ব নেবে?
আদালত কি দেখাতে পারবে, আইনের নিশ্চিততা ফাঁসির নাটকের চেয়ে বেশি শক্তিশালী?
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা পুরুষেরা কি নিরপেক্ষ থাকার বদলে মানুষ হওয়াটাকে বেশি জরুরি বলে মনে করবে?
যদি আমরা এই প্রশ্নগুলোকে প্রতিবাদের শব্দের চেয়ে দীর্ঘায়িত করতে পারি, তবে হয়তো একদিন এমনও সময় আসবে, যখন রে*প–ভিডিও নয়, আমরা রিপ্লে করে দেখে যাব সেই দৃশ্য—
এক মহিলা পড়ে যাচ্ছেন, আর ভিড়ের ভেতর থেকে দশটি হাত এগিয়ে তাকে তুলে ধরছে।
